ঝিনুক পাউডার (Oyster Shell) — টমেটো-বেগুনের ফলে কালো দাগ ঠেকাতে জৈব ক্যালসিয়াম
গাছের জন্য ঝিনুক পাউডার — মিহি করে গুঁড়া করা ঝিনুকের খোলস, প্রায় পুরোটাই ক্যালসিয়াম কার্বনেট। টমেটো, বেগুন ও ক্যাপসিকামের ফলের নিচে কালো পচা দাগ ঠেকাতে এবং টবের অম্লীয় (টক) মাটির pH ধীরে ধীরে বাড়াতে ব্যবহার হয়। ১০ ইঞ্চি টবে এক মুঠোই যথেষ্ট, মৌসুমে একবার। এটি দ্রুত কাজের সার নয় — কয়েক মাস ধরে ছাড়ে।
৳ ২,৫০০ এর উপরে ফ্রি ডেলিভারি
পণ্যের বিবরণ · Product description
টমেটো ভালোই হচ্ছিল, হঠাৎ দেখলেন ফলের নিচের দিকটা কালো হয়ে বসে গেছে — পচা নয়, শুকনো চামড়ার মতো কালো দাগ। বেগুন আর ক্যাপসিকামেও একই জিনিস হয়। ছাদ ও বারান্দার টবে এটি সবচেয়ে বেশি হয়, আর এর কারণ পোকা বা ছত্রাক নয় — ক্যালসিয়ামের ঘাটতি। গাছের জন্য ঝিনুক পাউডার ঠিক এই সমস্যাটির জন্য।
ঝিনুকের খোলস প্রায় পুরোটাই ক্যালসিয়াম কার্বনেট। মিহি গুঁড়া করলে সেটি মাটিতে মিশে ধীরে ধীরে ক্যালসিয়াম ছাড়ে এবং একই সঙ্গে অম্লীয় মাটির pH একটু একটু করে বাড়ায়। টবের মাটি বারবার ব্যবহার করলে আর বৃষ্টির পানি পড়তে থাকলে মাটি ক্রমশ টক হয়ে যায় — তখন সার দিলেও গাছ তা নিতে পারে না।
গাছের জন্য ঝিনুক পাউডার কী কাজ করে
- ফলের গোড়ায় কালো দাগ ঠেকায়: টমেটো, বেগুন, ক্যাপসিকাম ও শসায় ব্লসম-এন্ড রট মূলত ক্যালসিয়াম ঘাটতির ফল।
- কোষপ্রাচীর শক্ত করে: ক্যালসিয়াম গাছের কোষের দেয়াল গঠনের উপাদান — ডাঁটা ও ফল দুটোই মজবুত হয়।
- টক মাটির pH বাড়ায়: pH ৫.৫-এর নিচে নেমে যাওয়া টবের মাটিকে ধীরে ধীরে সবজির উপযোগী সীমায় ফেরায়।
- শিকড়ের বৃদ্ধি ভালো করে: নতুন শিকড়ের ডগা তৈরিতে ক্যালসিয়াম সরাসরি লাগে।
- ধীরে ছাড়ে, পুড়ে যায় না: রাসায়নিক ক্যালসিয়াম সারের মতো একবারে ঝাঁকুনি দেয় না — মৌসুমজুড়ে অল্প অল্প করে পাওয়া যায়।
কোন টবে কতটুকু দেবেন
ঝিনুক পাউডার মাটি তৈরির সময় মিশিয়ে দেওয়াই সবচেয়ে ভালো। গাছ বসানোর পরে দিতে হলে গোড়ার চারপাশে ছড়িয়ে উপরের মাটির সঙ্গে হালকা মিশিয়ে পানি দিন।
| টবের মাপ | পরিমাণ | কতবার |
|---|---|---|
| ৮ ইঞ্চি (শাক, মরিচ) | ১ টেবিল চামচ (≈১৫ গ্রাম) | মৌসুমে ১ বার |
| ১০ ইঞ্চি | ১ মুঠো (≈২৫ গ্রাম) | মৌসুমে ১ বার |
| ১২–১৪ ইঞ্চি (টমেটো, বেগুন) | ১.৫–২ মুঠো (≈৪০ গ্রাম) | মৌসুমে ১ বার |
| ১৬–১৮ ইঞ্চি (লাউ, কুমড়া) | ২–৩ মুঠো (≈৬০ গ্রাম) | মৌসুমে ১ বার |
| জিও গ্রো ব্যাগ / বেড | প্রতি ১০ কেজি মাটিতে ৫০ গ্রাম | মৌসুমে ১ বার |
ফলের গোড়ায় কালো দাগ শুরু হয়ে গেলে ঝিনুক পাউডার দিয়ে ওই ফলটি আর ভালো হবে না — কাটা ফল ফেলে দিন। পরের ফলগুলো বাঁচাতে হবে, আর সেজন্য পানি দেওয়ার নিয়মিততাও ঠিক করতে হবে: মাটি একবার শুকনো একবার ভেজা হলে ক্যালসিয়াম মাটিতে থাকা সত্ত্বেও গাছ তা টানতে পারে না।
স্পেসিফিকেশন
| বৈশিষ্ট্য | মান |
|---|---|
| উপাদান | প্রাকৃতিক ঝিনুকের খোলস, ধোয়া ও শুকানো |
| প্রধান পুষ্টি | ক্যালসিয়াম (Ca) — ক্যালসিয়াম কার্বনেট হিসেবে |
| সহ-উপাদান | সামান্য ম্যাগনেসিয়াম, সিলিকন ও অণুখাদ্য |
| দানার আকার | মিহি গুঁড়া — মাটিতে দ্রুত মেশে |
| ছাড়ার ধরন | ধীরে-ছাড়া · কয়েক মাস ধরে |
| pH-এ প্রভাব | বাড়ায় (ক্ষারীয় দিকে নেয়) |
| ধরন | ১০০% প্রাকৃতিক · রাসায়নিকমুক্ত |
| ব্র্যান্ড | GrowDeshi |
যা খোলাখুলি বলা দরকার
- এটি দ্রুত কাজের সার নয়। গুঁড়া খোলস মাটিতে দ্রবীভূত হতে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস লাগে। আজ দিয়ে কাল ফল বাঁচবে — এমন প্রত্যাশা করবেন না। এটি মৌসুমের শুরুতে দেওয়ার জিনিস।
- বেশি দিলে ক্ষতি। অতিরিক্ত দিলে মাটি বেশি ক্ষারীয় হয়ে যায়, আর তখন আয়রন ও জিংক গাছ নিতে পারে না — নতুন পাতা হলুদ হতে শুরু করে। উপরের ছকের পরিমাণ মেনে চলুন।
- চুন বা ডলোমাইটের সঙ্গে একসঙ্গে দেবেন না। দুটোই pH বাড়ায়; একসঙ্গে দিলে হিসাব ছাড়িয়ে যায়। একটি বেছে নিন।
- মাটি আগে থেকেই ক্ষারীয় হলে দরকার নেই। pH ৭.০-এর উপরে থাকলে ঝিনুক পাউডার সমস্যা বাড়াবে। না মেপে দেবেন না — সবজিভেদে মাটির pH কত হওয়া উচিত দেখে নিন।
- সব হলুদ পাতার সমাধান এটি নয়। ক্যালসিয়াম ঘাটতি ধরা পড়ে ফলে ও নতুন পাতায়, পুরনো পাতায় নয়। পুরনো পাতা হলুদ হলে কারণ সাধারণত নাইট্রোজেন বা ম্যাগনেসিয়াম।
মাটির স্বাস্থ্য ও পুষ্টি ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকারি তথ্যের জন্য দেখুন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI), মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (SRDI) এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (DAE)।
আরও পড়ুন — টবের মাটির পিএইচ কমানো ও বাড়ানোর উপায়, জৈব সারের NPK চার্ট এবং টবের মাটি তৈরির সম্পূর্ণ গাইড।
সঙ্গে ব্যবহার করুন — হাড়ের গুঁড়া (ফসফরাস ও ক্যালসিয়াম) এবং রেডি পটিং মিক্স।
সাধারণ প্রশ্ন
গাছের জন্য ঝিনুক পাউডার কী কাজে লাগে?
এটি ক্যালসিয়ামের প্রাকৃতিক উৎস। টমেটো, বেগুন ও ক্যাপসিকামের ফলের নিচে কালো পচা দাগ (ব্লসম-এন্ড রট) ঠেকায়, গাছের কোষপ্রাচীর শক্ত করে এবং টবের অম্লীয় মাটির pH ধীরে ধীরে বাড়িয়ে সবজির উপযোগী সীমায় আনে।
১০ ইঞ্চি টবে কতটুকু ঝিনুক পাউডার দেব?
এক মুঠো, প্রায় ২৫ গ্রাম, মৌসুমে একবার। মাটি তৈরির সময় মিশিয়ে দিলে সবচেয়ে ভালো কাজ করে। গাছ বসানো থাকলে গোড়ার চারপাশে ছড়িয়ে উপরের মাটির সঙ্গে হালকা মিশিয়ে পানি দিন।
ঝিনুক পাউডার আর ডিমের খোসার গুঁড়া কি একই?
কাজ একই — দুটোই ক্যালসিয়াম কার্বনেট। পার্থক্য মিহিত্বে। ঘরে ভাঙা ডিমের খোসা মোটা থাকে বলে দ্রবীভূত হতে অনেক বেশি সময় লাগে। মিলে গুঁড়া করা ঝিনুক পাউডার অনেক দ্রুত কাজে আসে।
কত দিনে ফল পাওয়া যায়?
এটি ধীরে-ছাড়া উপাদান — কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস। তাই এটি মৌসুমের শুরুতে, মাটি তৈরির সময় দেওয়ার জিনিস। ফলে দাগ দেখা দেওয়ার পর দিলে চলতি ফলটি আর ভালো হবে না, পরেরগুলো বাঁচবে।
বেশি দিলে কি ক্ষতি হয়?
হ্যাঁ। অতিরিক্ত দিলে মাটি বেশি ক্ষারীয় হয়ে যায় এবং আয়রন ও জিংক গাছ নিতে পারে না — নতুন পাতা হলুদ হতে শুরু করে। চুন বা ডলোমাইটের সঙ্গেও একসঙ্গে দেবেন না, দুটোই pH বাড়ায়।
ফলে কালো দাগ হলে শুধু ঝিনুক পাউডার দিলেই কি সমাধান?
না। মাটিতে ক্যালসিয়াম থাকলেও পানি দেওয়া অনিয়মিত হলে গাছ তা টানতে পারে না। একবার শুকনো একবার ভেজা — এই ওঠানামাই ব্লসম-এন্ড রটের বড় কারণ। ক্যালসিয়ামের সঙ্গে পানির রুটিনও ঠিক করতে হবে।












পর্যালোচনা
এখনো কোনো রিভিউ নেই। প্রথম রিভিউটি আপনিই লিখুন।