ইপসম সল্ট (Magnesium Sulphate) — পাতার শিরা সবুজ, চারপাশ হলুদ হলে
গাছের জন্য ইপসম সল্ট (ম্যাগনেসিয়াম সালফেট) — পুরনো পাতার শিরা সবুজ কিন্তু চারপাশ হলুদ হয়ে গেলে সেটি ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি, আর এটিই তার সরাসরি সমাধান। ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরোফিলের কেন্দ্রে থাকে — না থাকলে পাতা সবুজ হতে পারে না। ১ লিটার পানিতে ১ চা-চামচ, ১৫ দিনে একবার। এটি সাধারণ সার নয় — শুধু ম্যাগনেসিয়াম ও সালফার দেয়।
৳ ২,৫০০ এর উপরে ফ্রি ডেলিভারি
পণ্যের বিবরণ · Product description
গাছের নিচের দিকের পুরনো পাতাগুলো হলুদ হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু ভালো করে দেখলে পাতার শিরাগুলো এখনো সবুজ — হলুদ হয়েছে শিরার মাঝের অংশ। এটি নাইট্রোজেনের অভাব নয়, পানির সমস্যাও নয়। এটি ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি, আর গাছের জন্য ইপসম সল্ট এর সবচেয়ে সরাসরি সমাধান।
ইপসম সল্টের রাসায়নিক নাম ম্যাগনেসিয়াম সালফেট। ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরোফিল অণুর একেবারে কেন্দ্রে বসে থাকে — অর্থাৎ ম্যাগনেসিয়াম ছাড়া পাতা সবুজই হতে পারে না। টবের মাটিতে বারবার পানি দিলে ম্যাগনেসিয়াম ধুয়ে নিচে চলে যায়, তাই ছাদ ও বারান্দার টবে এই ঘাটতি জমিনের চেয়ে অনেক বেশি হয়।
কীভাবে বুঝবেন ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি
- পুরনো পাতা আগে ধরে — নতুন পাতা নয়। ম্যাগনেসিয়াম চলাচলযোগ্য, গাছ পুরনো পাতা থেকে টেনে নতুন পাতায় পাঠায়।
- শিরা সবুজ, মাঝখান হলুদ — এটিই সবচেয়ে নিশ্চিত লক্ষণ। পুরো পাতা সমানভাবে হলুদ হলে সেটি নাইট্রোজেনের অভাব, ইপসম সল্টে কাজ হবে না।
- টমেটো, মরিচ ও গোলাপে বেশি দেখা যায় — এদের ম্যাগনেসিয়ামের চাহিদা বেশি।
- পাতা ঝরে পড়া — ঘাটতি বাড়লে হলুদ পাতা কিনারা থেকে শুকিয়ে ঝরে যায়।
কতটুকু, কীভাবে দেবেন
| পদ্ধতি | মাত্রা | কতবার |
|---|---|---|
| পাতায় স্প্রে (দ্রুততম) | ১ লিটার পানিতে ১ চা-চামচ (≈৫ গ্রাম) | ১৫ দিনে ১ বার |
| মাটিতে গুলে ঢালা | ১ লিটার পানিতে ১ চা-চামচ, ১০ ইঞ্চি টবে | মাসে ১ বার |
| মাটি তৈরির সময় | ১০ ইঞ্চি টবে ১ চা-চামচ শুকনো মিশিয়ে দিন | মৌসুমে ১ বার |
| জিও গ্রো ব্যাগ / বেড | প্রতি ১০ কেজি মাটিতে ২ টেবিল চামচ | মৌসুমে ১ বার |
স্প্রে করলে ফল অনেক দ্রুত পাওয়া যায় — পাতা সরাসরি ম্যাগনেসিয়াম শুষে নেয়, মাটির pH বা শিকড়ের অবস্থার উপর নির্ভর করতে হয় না। স্প্রে করুন সকাল বা বিকেলে, কড়া রোদে নয়। পাতার নিচের দিকেও যেন লাগে।
স্পেসিফিকেশন
| বৈশিষ্ট্য | মান |
|---|---|
| রাসায়নিক নাম | ম্যাগনেসিয়াম সালফেট (MgSO₄·7H₂O) |
| ম্যাগনেসিয়াম (Mg) | ≈ ৯.৫% |
| সালফার (S) | ≈ ১২.৫% |
| দানা | সাদা স্ফটিক দানা |
| পানিতে দ্রাব্যতা | প্রায় সম্পূর্ণ — স্প্রে করা যায় |
| pH-এ প্রভাব | নিরপেক্ষ — pH বদলায় না |
| ব্যবহার | মাটিতে ও পাতায় স্প্রে দুটোই |
| ব্র্যান্ড | GrowDeshi |
যা খোলাখুলি বলা দরকার
বাংলাদেশের অনেক বাগান-সাইটে ইপসম সল্টকে সব সমস্যার সমাধান হিসেবে দেখানো হয় — “সেরা ১০টি ব্যবহার” জাতীয় তালিকায়। সেটা সত্যি নয়, এবং ভুল সমস্যায় ব্যবহার করলে টাকা ও সময় দুটোই নষ্ট হয়।
- এটি সাধারণ সার নয়। ইপসম সল্টে নাইট্রোজেন, ফসফরাস বা পটাশ কিছুই নেই। এটি শুধু ম্যাগনেসিয়াম ও সালফার দেয়। এটি দিয়ে জৈব সার বা কম্পোস্ট বাদ দেওয়া যাবে না।
- পুরো পাতা সমানভাবে হলুদ হলে কাজ হবে না। সেটি নাইট্রোজেনের অভাব — নাইট্রোজেনসমৃদ্ধ জৈব সার লাগবে, ইপসম নয়।
- অতিরিক্ত পানির কারণে হলুদ হলেও কাজ হবে না। শিকড় পচা গাছে ইপসম দিলে অবস্থা আরও খারাপ হয়। আগে অতিরিক্ত পানির লক্ষণ মিলিয়ে দেখুন।
- বেশি দিলে ক্ষতি। অতিরিক্ত ম্যাগনেসিয়াম মাটিতে ক্যালসিয়াম ও পটাশিয়াম গ্রহণে বাধা দেয়। মাসে একবারের বেশি নয়।
- গোসলের ইপসম সল্ট নয়। ফার্মেসিতে যে সুগন্ধি ইপসম সল্ট পাওয়া যায় তাতে সুগন্ধি ও রং মেশানো থাকে — গাছে দেবেন না। এটি কৃষি-গ্রেড, কিছু মেশানো নেই।
মাটির স্বাস্থ্য ও পুষ্টি ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকারি তথ্যের জন্য দেখুন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI), মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (SRDI) এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (DAE)।
আরও পড়ুন — সবজি গাছের পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার কারণ ও সমাধান, জৈব সারের NPK চার্ট এবং জৈব সারের মাত্রা চার্ট।
সঙ্গে ব্যবহার করুন — ভার্মিকম্পোস্ট (মূল খাবার) এবং রেডি পটিং মিক্স।
সাধারণ প্রশ্ন
গাছের জন্য ইপসম সল্ট কখন দেব?
যখন পুরনো পাতার শিরা সবুজ থেকে যায় কিন্তু শিরার মাঝের অংশ হলুদ হয়ে যায় — এটিই ম্যাগনেসিয়াম ঘাটতির নিশ্চিত লক্ষণ। টমেটো, মরিচ ও গোলাপে এটি বেশি হয়। পুরো পাতা সমানভাবে হলুদ হলে কারণ ভিন্ন, ইপসম সল্টে কাজ হবে না।
ইপসম সল্ট কতটুকু দিতে হয়?
১ লিটার পানিতে ১ চা-চামচ (প্রায় ৫ গ্রাম) গুলে ১৫ দিনে একবার পাতায় স্প্রে করুন, অথবা মাসে একবার মাটিতে ঢালুন। মাটি তৈরির সময় ১০ ইঞ্চি টবে ১ চা-চামচ শুকনো মিশিয়েও দেওয়া যায়। মাসে একবারের বেশি নয়।
ইপসম সল্ট কি সার হিসেবে কাজ করে?
না। এতে নাইট্রোজেন, ফসফরাস বা পটাশ নেই — শুধু ম্যাগনেসিয়াম (৯.৫%) ও সালফার (১২.৫%)। এটি একটি নির্দিষ্ট ঘাটতির ওষুধ, গাছের মূল খাবার নয়। কম্পোস্ট বা ভার্মিকম্পোস্টের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।
পাতায় স্প্রে নাকি মাটিতে — কোনটা ভালো?
দ্রুত ফল চাইলে পাতায় স্প্রে। পাতা সরাসরি ম্যাগনেসিয়াম শুষে নেয়, তাই মাটির pH বা শিকড়ের অবস্থা যাই হোক কাজ হয়। সকাল বা বিকেলে স্প্রে করুন, কড়া রোদে নয়, এবং পাতার নিচের দিকেও লাগান।
গোসলের ইপসম সল্ট গাছে দেওয়া যাবে?
না। ফার্মেসির ইপসম সল্টে প্রায়ই সুগন্ধি ও রং মেশানো থাকে, যা গাছের জন্য ক্ষতিকর। গাছের জন্য কৃষি-গ্রেড ম্যাগনেসিয়াম সালফেট ব্যবহার করুন — এতে কিছু মেশানো থাকে না।
ইপসম সল্ট কি মাটির pH বদলে দেয়?
না, এটি pH-নিরপেক্ষ। চুন বা ঝিনুক পাউডারের মতো মাটি ক্ষারীয় করে না, আবার অম্লীয়ও করে না। তাই pH ঠিক থাকা মাটিতেও নিশ্চিন্তে ব্যবহার করা যায়।












পর্যালোচনা
এখনো কোনো রিভিউ নেই। প্রথম রিভিউটি আপনিই লিখুন।