সজিনার বীজ · উন্নত দেশি জাত (১০ গ্রাম) — পুষ্টিকর ও কষ্টসহিষ্ণু · ছাদ ও বাড়ির বাগানের জন্য | Drumstick / Moringa Seeds
সজিনার বীজ — উন্নত দেশি জাত (ওপেন পলিনেটেড), কোনো সংকর জাত নয়। পাতা ও ডাঁটা দুটোই খাওয়া যায় এবং দুটোই অসম্ভব পুষ্টিকর; একবার লাগালে গাছ বহু বছর ধরে ফলন দেয়। এক প্যাকেটে ১০ গ্রাম বীজ, উচ্চ অঙ্কুরোদগমের (৮৫%+) কারণে ঘরের বাগানের জন্য যথেষ্ট চারা ও বাড়তি বীজও থাকে।
৳ ২,৫০০ এর উপরে ফ্রি ডেলিভারি
- বীজের সংখ্যা/পরিমাণ
- ১০ গ্রাম
- বীজের ধরন
- দেশি জাত
- বপনের মৌসুম
- খরিফ-১ · খরিফ-২
- অঙ্কুরোদগম তাপমাত্রা
- ২৫–৩৫°C
- অঙ্কুরোদগম সময়
- ১০–১৫ দিন
- অঙ্কুরোদগম হার
- ৮৫%+
- প্রথম ফলন
- ৯০–১২০ দিন
- টবের মাপ
- ১৮x১৫ ইঞ্চি
- কঠিনতা
- সহজ
- ভেজানো প্রয়োজন
- ২৪ ঘণ্টা
- উপযুক্ত
- উঠান / জমি · ছাদ বাগান
পণ্যের বিবরণ · Product description
একবার লাগিয়ে বহু বছর ধরে টাটকা পুষ্টি — সজিনা বা মরিঙ্গা ঠিক তেমনই একটি গাছ। GrowDeshi সজিনার বীজ হলো উন্নত দেশি জাত (ওপেন পলিনেটেড): কোনো সংকর জাত নয়, তাই একবার গাছ বড় হলে নিজের বীজ নিজেই রেখে দিতে পারবেন। এর পাতা ও ডাঁটা (ফল) দুটোই খাওয়া যায় এবং দুটোই অসম্ভব পুষ্টিকর — তাই একে “সুপারফুড” বলা হয়। প্যাকেট সাজানো হয়েছে ঘরের বাগানের মাপে — ১০ গ্রাম বীজ, অঙ্কুরোদগম ৮৫%+।
কেন এই দেশি জাত
এই উন্নত দেশি ওপেন পলিনেটেড জাত বেছে নেওয়ার কয়েকটি সহজ কারণ:
- অত্যন্ত পুষ্টিকর — পাতা ও ডাঁটা দুটোই: সজিনা পাতায় প্রচুর আয়রন, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন থাকে; ডাঁটা (ফল) রান্নায় সুস্বাদু। একই গাছ থেকে দুই ধরনের খাবার।
- খুব সহজ ও কষ্টসহিষ্ণু: খরা সহনশীল, রোগবালাই কম, বিশেষ যত্ন ছাড়াই বাড়ে — নতুন চাষির জন্য একদম উপযুক্ত।
- একবার লাগালে বহু বছর ফলন: সজিনা একটি বহুবর্ষজীবী গাছ (perennial) — প্রতি মৌসুমে নতুন করে লাগাতে হয় না, একই গাছ বছরের পর বছর পাতা ও ডাঁটা দেয়।
- নিজের বীজ নিজেই রাখা যায়: ওপেন পলিনেটেড দেশি জাত বলে গাছের ফল থেকে বীজ রেখে দিলে পরের বার একই গুণের চারা পাওয়া যায় — বীজ কিনতে হয় না।
সজিনা একটি গাছ, এক মৌসুমের ছোট সবজি নয় — শিকড় গভীরে যায়, তাই বড় ড্রাম, ২০ ইঞ্চির বড় গভীর টব বা সরাসরি মাটি দরকার। এটি দীর্ঘমেয়াদি রোপণ; জায়গা রেখে লাগান, আর ছাদে রাখলে নিয়মিত ছেঁটে ছোট রাখুন।
কেন ঘরোয়া মাপের প্যাকেট
সজিনা বড় গাছ — বাড়ির ছাদে বা উঠানে ১–২টি গাছই একটি পরিবারের সারা বছরের পাতা ও ডাঁটার চাহিদা মেটায়। তাই শত শত বীজের দরকার নেই। বাজারের বড় প্যাকেট কিনলে বেশিরভাগ বীজ কৌটায় পড়ে থেকে অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা হারায়। উচ্চ অঙ্কুরোদগমের এই দেশি বীজ বলে আমরা দিই ১০ গ্রাম বীজ — কয়েকটি সবল চারা তৈরির জন্য যথেষ্ট, সঙ্গে দু-একটি নষ্ট হলেও হাতে বাড়তি বীজ থাকে।
বপনের সময়
| মৌসুম | চারা লাগানো | মন্তব্য |
|---|---|---|
| গ্রীষ্ম (খরিফ-১) | মার্চ–জুন | উষ্ণ আবহাওয়ায় চারা দ্রুত বাড়ে |
| বর্ষা (খরিফ-২) | জুলাই–সেপ্টেম্বর | পর্যাপ্ত পানি পেয়ে চারা সহজে ধরে |
বড় ড্রাম বা মাটিতে সজিনা চাষের ধাপে ধাপে নিয়ম পাবেন এই পণ্যের “চাষ পদ্ধতি” ট্যাবে। ঘরে সবজি বাগান শুরুর সাধারণ নিয়ম জানতে পড়ুন আমাদের ঘরে সবজি চাষের গাইড। একদম প্রথমবার লাগাচ্ছেন? আগে দেখে নিন নতুনদের সবজি চাষ, আর গাছ তাজা ও পুষ্টিকর রাখতে জেনে নিন জৈব সার গাইড।
নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI), কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (DAE) ও কৃষি তথ্য সার্ভিস (AIS)।
সাধারণ প্রশ্ন
এক প্যাকেটে কতটি বীজ থাকে?
১০ গ্রাম বীজ। সজিনা বড় গাছ, ঘরের বাগানে ১–২টি গাছই একটি পরিবারের জন্য যথেষ্ট। উচ্চ অঙ্কুরোদগম হার (৮৫%+) বলে ১০ গ্রাম বীজ থেকে কয়েকটি সবল চারা তৈরি করা যায়, সঙ্গে কিছু বীজ বাড়তিও থাকে।
সজিনা কি ছাদে বা টবে চাষ করা যায়? গাছ কত বড় হয়?
হ্যাঁ, ছাদে ও টবে চাষ করা যায়, তবে মনে রাখবেন এটি একটি গাছ যা খোলা জমিতে অনেক লম্বা হয়। ছাদে রাখলে বড় ড্রাম বা ২০ ইঞ্চির বড় গভীর টব নিন এবং গাছ ৪–৬ ফুট হলে মাথা ছেঁটে দিন — এতে গাছ ছোট, ঝোপালো ও নাগালের মধ্যে থাকে, নতুন ডালে বেশি পাতা ও ডাঁটা ধরে।
কত দিনে পাতা ও ডাঁটা পাওয়া যায়?
সজিনা দ্রুত বাড়ে — চারা লাগানোর পর ৯০–১২০ দিনের মধ্যে পাতা তোলা শুরু করা যায়। ডাঁটা (ফল) আরও পরে, গাছ পরিণত হলে ধরে। বীজ অঙ্কুরোদগমে সময় লাগে ১০–১৫ দিন।
বীজ কি ভিজিয়ে বপন করতে হয়?
হ্যাঁ। বপনের আগে বীজ ২৪ ঘণ্টা পরিষ্কার পানিতে ভিজিয়ে নিলে অঙ্কুরোদগম দ্রুত ও সমান হয়। ২৫–৩৫°C তাপমাত্রায় সাধারণত ১০–১৫ দিনে চারা গজায়।
এই বীজ থেকে কি বীজ রেখে দেওয়া যায়?
হ্যাঁ, দেওয়া যায় — এটাই এই দেশি জাতের বড় সুবিধা। এটি ওপেন পলিনেটেড দেশি জাত (সংকর নয়), তাই গাছের পরিণত ডাঁটা শুকিয়ে ভেতরের বীজ রেখে দিলে পরের বার একই গুণের চারা পাওয়া যায়। শুকনো, ঠান্ডা জায়গায় বীজ রাখুন।
চাষ পদ্ধতি · How to grow
১ চাষের মৌসুম · Growing season
সজিনা উষ্ণ আবহাওয়ার গাছ — চারা লাগানোর উপযুক্ত সময় গ্রীষ্ম (খরিফ-১, মার্চ–জুন) ও বর্ষা (খরিফ-২, জুলাই–সেপ্টেম্বর)। বীজ অঙ্কুরোদগমের জন্য আদর্শ তাপমাত্রা ২৫–৩৫°C এবং মাটির pH ৬.৫–৭.৫ হলে গাছ সবচেয়ে ভালো হয়। সজিনা খরা সহনশীল ও কষ্টসহিষ্ণু, তাই একবার শিকড় ধরে গেলে অল্প যত্নেই বছরের পর বছর ফলন দেয়।
২ কীভাবে চাষ করবেন · How to grow
- বীজ ভেজানো: বপনের আগে বীজ ২৪ ঘণ্টা পরিষ্কার পানিতে ভিজিয়ে রাখুন — এতে শক্ত খোসা নরম হয় ও অঙ্কুরোদগম দ্রুত হয়।
- পাত্র: শিকড় গভীরে যায় বলে বড় ড্রাম, ২০ ইঞ্চির বড় গভীর টব বা সরাসরি মাটি নিন — প্রতি পাত্রে ১টি চারা।
- মাটি: তলায় ২ ইঞ্চি ইটের সুরকি, তারপর ৬০% দোআঁশ মাটি + ৩০% পচা গোবর/পাতা-পচা সার + ১০% বালি বা কোকোপিট মিশিয়ে ভরাট করুন — নিষ্কাশন ভালো হওয়া চাই।
- বপন: ভেজানো বীজ ২–৩ সেন্টিমিটার গভীরে বসিয়ে হালকা মাটি দিয়ে ঢেকে দিন।
- পানি: বপনের পর ঝাঁঝরি বা স্প্রে দিয়ে হালকা করে ভিজিয়ে দিন; মাটি স্যাঁতসেঁতে রাখুন, কাদা নয়।
- অঙ্কুরোদগম: ২৫–৩৫°C তাপমাত্রায় ১০–১৫ দিনে চারা গজায়।
- ছাঁটাই: চারা ৪–৬ ফুট হলে মাথা ছেঁটে দিন — এতে গাছ ছোট ও ঝোপালো থাকে, নতুন ডালে বেশি পাতা ও ডাঁটা ধরে, বিশেষ করে ছাদের বাগানে সুবিধা হয়।
৩ সার প্রয়োগ · Fertilizing
সজিনা কষ্টসহিষ্ণু গাছ, বেশি সারের দরকার নেই। চারা লাগানোর সময় মাটিতে ভালো করে পচা গোবর মিশিয়ে দিন। এরপর প্রতি ২–৩ মাসে একবার বড় পাত্রে ২৫০–৫০০ গ্রাম পচা গোবর বা ১৫০–২০০ গ্রাম ভার্মিকম্পোস্ট গোড়ার মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিন। বছরে একবার এক মুঠো কাঠের ছাই দিলে গাছ আরও ভালো ফল দেয়। রাসায়নিক সারের প্রয়োজন নেই।
৪ যত্ন · Care
- রোদ: দিনে অন্তত ৬ ঘণ্টা সরাসরি রোদ — যত বেশি রোদ তত ভালো বাড়ে।
- পানি: চারা অবস্থায় নিয়মিত পানি দিন; গাছ বড় হলে খরা সহনশীল বলে কম পানিতেও চলে। বর্ষায় গোড়ায় পানি জমতে দেবেন না — অতিরিক্ত পানিতে শিকড় পচে।
- মাটি: নিষ্কাশন ভালো রাখুন; জলাবদ্ধতা সজিনার সবচেয়ে বড় শত্রু।
- পোকা: সাধারণত পোকা কম হয়; মাঝেমধ্যে শুঁয়াপোকা বা জাব পোকা এলে ১ লিটার পানিতে ৫ মিলি নিম তেল + ২ মিলি ডিশ সোপ মিশিয়ে সপ্তাহে একবার স্প্রে করুন।
- ছাঁটাই: ফল তোলার পর ডাল ছেঁটে দিন — এতে গাছ ছোট, ঝোপালো ও বেশি ফলনশীল থাকে, ছাদে রাখাও সহজ হয়।
৫ ফসল সংগ্রহ · Harvest
সজিনা দ্রুত বাড়ে — চারা লাগানোর ৯০–১২০ দিনের মধ্যে পাতা তোলা শুরু করা যায়। রান্নার জন্য কচি, গাঢ় সবুজ পাতা বেছে নিন। ডাঁটা (ফল) আরও পরে, গাছ পরিণত হলে ধরে — কচি ও নরম অবস্থায়, ভেতরের বীজ শক্ত হওয়ার আগেই তুলুন; আঙুলে সহজে ভাঙলে বুঝবেন ডাঁটা রান্নার উপযোগী। বেশি পাকলে ডাঁটা আঁশযুক্ত ও শক্ত হয়ে যায়। বহুবর্ষজীবী গাছ বলে একই গাছ থেকে বছরের পর বছর পাতা ও ডাঁটা পাওয়া যায়।












পর্যালোচনা
এখনো কোনো রিভিউ নেই। প্রথম রিভিউটি আপনিই লিখুন।