হাইব্রিড লাউয়ের বীজ · F-1 (৮টি বীজ) — বর্ষার সেরা, ৫০ দিনে ফলন · ছাদ ও বাড়ির বাগানের জন্য | Bottle Gourd Hybrid Seeds
হাইব্রিড F-1 লাউয়ের বীজ — ছত্রাক, ভাইরাস ও ব্লাইট রোগ সহনশীল উচ্চ ফলনশীল প্রিমিয়াম জাত, বর্ষার আর্দ্র আবহাওয়ার জন্য আদর্শ। এক প্যাকেটে ৮টি বীজ, উচ্চ অঙ্কুরোদগমের (৮৫%+) কারণে ঘরের বাগানের জন্য যথেষ্ট চারা ও বাড়তি বীজও থাকে।
৳ ২,৫০০ এর উপরে ফ্রি ডেলিভারি
- বীজের সংখ্যা/পরিমাণ
- ৮টি বীজ
- বীজের ধরন
- F-1 হাইব্রিড
- বপনের মৌসুম
- খরিফ-১ · খরিফ-২
- অঙ্কুরোদগম তাপমাত্রা
- ২৫–৩৫°C
- অঙ্কুরোদগম সময়
- ৭–১০ দিন
- অঙ্কুরোদগম হার
- ৮৫%+
- প্রথম ফলন
- ৫০–৬০ দিন
- টবের মাপ
- ১৮x১৫ ইঞ্চি
- কঠিনতা
- মাঝারি
- ভেজানো প্রয়োজন
- ২৪ ঘণ্টা
- উপযুক্ত
- উঠান / জমি · ছাদ বাগান
পণ্যের বিবরণ · Product description
বর্ষার স্যাঁতসেঁতে দিনেও যে সবজি মাচা ভরে ফল দেয়, তার একটি লাউ। GrowDeshi হাইব্রিড লাউয়ের বীজ (F-1) হলো আমাদের বাছাই করা প্রিমিয়াম জাত: ছত্রাক, ভাইরাস ও ব্লাইট রোগ সহনশীল, তেজি লতা এবং প্রায় প্রতি গিঁটেই ফল ধরে। ফল হয় কচি, কোমল ও সবুজ — রান্নায় নরম ও সুস্বাদু। প্যাকেট সাজানো হয়েছে ঘরের বাগানের মাপে — ৮টি বীজ, যা একটি ছাদ বা বাড়ির বাগানের এক মৌসুমের জন্য যথেষ্ট, সঙ্গে বাড়তি কিছু বীজও থাকে।
কেন হাইব্রিড F-1 বীজ
সাধারণ দেশি বা খোলা-পরাগায়িত বীজের তুলনায় F-1 হাইব্রিড লাউয়ের কয়েকটি বড় সুবিধা:
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: ছত্রাক, ভাইরাস ও ব্লাইট রোগের বিরুদ্ধে বাড়তি সহনশীলতা — আর্দ্র বর্ষার আবহাওয়ায় যা সবচেয়ে বড় ভরসা।
- বেশি ফলন: তেজি লতায় প্রায় প্রতিটি গিঁটেই ফল ধরে, তাই কম গাছেই মৌসুমজুড়ে অনেক লাউ।
- কচি ও কোমল সবুজ ফল: ফল থাকে নরম, সবুজ ও সুস্বাদু — রান্নায় ও দেখতে দুটোতেই ভালো।
- উচ্চ অঙ্কুরোদগম (৮৫%+): প্রায় প্রতিটি বীজ থেকেই চারা গজায়, তাই অল্প বীজেই কাজ চলে যায়।
F-1 হাইব্রিড থেকে পাওয়া ফল থেকে বীজ রেখে দিলে পরের মৌসুমে একই গুণ পাওয়া যায় না। তাই প্রতি মৌসুমে নতুন প্যাকেট থেকে বীজ লাগানোই ভালো — এতে রোগ প্রতিরোধ ও ফলন দুটোই ঠিক থাকে।
কেন ঘরোয়া মাপের প্যাকেট
লাউ বড় ও তেজি লতা — একটি সবল গাছই মাচা ভরে মৌসুমজুড়ে অনেক ফল দেয়। তাই বাড়ির ছাদে বা উঠানে আপনার লাগে মাত্র ১–২টি গাছ, আর ৮টি বীজে ৬–১০টি টব অনায়াসে ভরে যায়। বাজারের বেশিরভাগ প্যাকেট তৈরি হয় জমির চাষির জন্য — ৫ থেকে ১০ গ্রাম, অর্থাৎ শত শত বীজ, যার বেশিরভাগ কৌটায় পড়ে থেকে অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা হারায়। উচ্চ অঙ্কুরোদগমের প্রিমিয়াম F-1 বীজ বলে আমরা দিই ৮টি বীজ — ঘরের বাগানের এক মৌসুমের জন্য যথেষ্ট, সঙ্গে দু-একটি চারা নষ্ট হলেও হাতে বাড়তি বীজ থাকে।
বপনের সময়
| মৌসুম | বপন | মন্তব্য |
|---|---|---|
| বর্ষা (খরিফ-২) | জুলাই–সেপ্টেম্বর | প্রধান মৌসুম — হাইব্রিডের রোগ সহনশীলতা এ সময়েই সবচেয়ে কাজে লাগে |
| গ্রীষ্ম (খরিফ-১) | মার্চ–মে | গরম আবহাওয়াতেও ভালো ফলন দেয় |
টবে লাউ চাষের ধাপে ধাপে নিয়ম পাবেন এই পণ্যের “চাষ পদ্ধতি” ট্যাবে। আরও বিস্তারিত জানতে পড়ুন আমাদের বর্ষায় লাউ চাষের বিস্তারিত গাইড। বর্ষায় স্ত্রী ফুল ঝরে গেলে বা ফল ছোট থেকেই পচে গেলে লাউয়ের হাত পরাগায়ন করলে ফলন কয়েক গুণ বাড়ে, আর টবে যেন পানি না জমে সেজন্য দেখে নিন বর্ষায় টবের নিষ্কাশনের কৌশল।
নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI), কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (DAE) ও কৃষি তথ্য সার্ভিস (AIS)।
সাধারণ প্রশ্ন
এক প্যাকেটে কতটি বীজ থাকে?
৮টি বীজ। লাউ বড় গাছ, ঘরের বাগানে ১–২টি গাছই যথেষ্ট। উচ্চ অঙ্কুরোদগম হার (৮৫%+) বলে ৮টি বীজে ৬–১০টি টব ভরানো যায়, তারপরও কিছু বীজ বাড়তি থাকে।
লাউ কি বর্ষায় ভালো হয়?
হ্যাঁ, এটি মূলত বর্ষা (খরিফ-২) মৌসুমের ফসল। এই হাইব্রিড জাত ছত্রাক, ভাইরাস ও ব্লাইট রোগ সহনশীল, তাই আর্দ্র বর্ষায়ও ভালো ফলন দেয়। গ্রীষ্মেও (খরিফ-১) চাষ করা যায়।
কোন আকারের টব লাগবে?
লাউ বড় ও তেজি লতা বলে ১৮ ইঞ্চি বা তার বড় টব, ড্রাম বা মাটির বেড দরকার — প্রতি পাত্রে ১টি চারা। মজবুত মাচা করে দিন, কারণ ভারী ফল ধরে বলে দুর্বল মাচা ভেঙে পড়তে পারে।
বীজ কি ভিজিয়ে বপন করতে হয়?
হ্যাঁ। বপনের আগে বীজ ২৪ ঘণ্টা পরিষ্কার পানিতে ভিজিয়ে নিলে অঙ্কুরোদগম দ্রুত ও সমান হয়; ২৫–৩৫°C তাপমাত্রায় ৭–১০ দিনে চারা গজায়।
F-1 বীজ থেকে কি বীজ রেখে দেওয়া যায়?
না রাখাই ভালো। F-1 হাইব্রিডের পরের প্রজন্ম মূল গাছের গুণ ধরে রাখে না — ফলন ও রোগ প্রতিরোধ কমে যায়। ভালো ফলনের জন্য প্রতি মৌসুমে নতুন প্যাকেট থেকে বীজ লাগান।
চাষ পদ্ধতি · How to grow
১ চাষের মৌসুম · Growing season
লাউ মূলত বর্ষা (খরিফ-২) মৌসুমের ফসল, তবে গ্রীষ্মেও (খরিফ-১) ভালো হয়। বপনের উপযুক্ত সময় বর্ষায় জুলাই–সেপ্টেম্বর এবং গ্রীষ্মে মার্চ–মে। অঙ্কুরোদগমের জন্য আদর্শ তাপমাত্রা ২৫–৩৫°C এবং মাটির pH ৬.০–৬.৭ হলে ফলন সবচেয়ে ভালো হয়। এই হাইব্রিড জাত রোগ সহনশীল বলে আর্দ্র বর্ষাতেও নিশ্চিন্তে চাষ করা যায়।
২ কীভাবে চাষ করবেন · How to grow
- বীজ ভেজানো: বপনের আগে বীজ ২৪ ঘণ্টা পরিষ্কার পানিতে ভিজিয়ে রাখুন — এতে অঙ্কুরোদগম দ্রুত ও সমান হয়।
- টব: লাউ বড় ও তেজি লতা, তাই ১৮ ইঞ্চি বা তার বড় টব, ড্রাম বা মাটির বেড নিন — প্রতি পাত্রে ১টি চারা।
- মাটি: তলায় ২ ইঞ্চি ইটের সুরকি, তারপর ৬০% দোআঁশ মাটি + ৩০% পচা গোবর/পাতা-পচা সার + ৫% কোকোপিট + ৫% কাঠের ছাই মিশিয়ে ভরাট করুন।
- বপন: ভেজানো বীজ ২–৩ সেন্টিমিটার গভীরে বসিয়ে হালকা মাটি দিয়ে ঢেকে দিন।
- পানি: বপনের পর ঝাঁঝরি দিয়ে হালকা করে ভিজিয়ে দিন; মাটি স্যাঁতসেঁতে রাখুন, কাদা নয়।
- অঙ্কুরোদগম: ২৫–৩৫°C তাপমাত্রায় ৭–১০ দিনে চারা গজায়।
- মাচা: লতা ছড়ানোর আগেই মজবুত মাচা করে দিন — লাউ ভারী ফল, তাই মাচা শক্ত ও উঁচু হওয়া চাই যাতে ফল ঝুলে সোজা থাকে।
৩ সার প্রয়োগ · Fertilizing
গাছ বাড়ার সময় থেকে প্রতি ১৫ দিন পরপর জৈব সার দিন। বড় টবে ২০০ গ্রাম সরিষার খৈল বা ৫০০ গ্রাম শুকনো গোবর ২ লিটার পানিতে ১০ দিন ভিজিয়ে সেই পানি গাছের গোড়ায় ঢালুন। ফুল-ফল ধরার সময় গোড়ায় এক মুঠো কাঠের ছাই দিলে ফল বড় ও ভারী হয়।
৪ যত্ন · Care
- রোদ: দিনে অন্তত ৫–৬ ঘণ্টা সরাসরি রোদ।
- পানি: গ্রীষ্মে প্রতিদিন সকাল-বিকেল, বর্ষায় মাটি দেখে — কখনো টবে পানি জমতে দেবেন না।
- মাটি: নিষ্কাশন ভালো রাখুন; বর্ষায় টবের তলার ছিদ্র খোলা রাখুন যাতে শিকড় না পচে।
- পোকা: ফ্রুট ফ্লাই ও জাব পোকা — ১ লিটার পানিতে ৫ মিলি নিম তেল + ২ মিলি ডিশ সোপ মিশিয়ে সপ্তাহে একবার স্প্রে করুন; কচি ফল কাগজ দিয়ে মুড়ে রাখলে ফ্রুট ফ্লাই ডিম পাড়তে পারে না।
- রোগ: হাইব্রিড জাত ছত্রাক ও ভাইরাস সহনশীল হলেও অতিরিক্ত আর্দ্রতায় পাউডারি মিলডিউ হতে পারে — ১ ভাগ দুধ ৯ ভাগ পানিতে মিশিয়ে সকালে স্প্রে করলে প্রতিরোধ হয়।
৫ ফসল সংগ্রহ · Harvest
বীজ বপনের ৫০–৫৫ দিনের মধ্যে প্রথম লাউ তোলার উপযোগী হয়। ফুল আসার ৭–১০ দিন পর কচি ফল ধরে। রান্নার জন্য কচি, কোমল ও সবুজ অবস্থায় তুলুন — গায়ে নখ দিলে সহজে বসে গেলে বুঝবেন ফল কচি আছে। বেশি বড় বা শক্ত হয়ে গেলে ভেতরে বীজ শক্ত হয় ও স্বাদ কমে। ৩–৪ দিন পরপর নিয়মিত তুললে গাছ বেশি ফল দেয়।












পর্যালোচনা
এখনো কোনো রিভিউ নেই। প্রথম রিভিউটি আপনিই লিখুন।