হাইব্রিড ঝিঙের বীজ · F-1 (৮টি বীজ) — মাত্র ৪০–৪৫ দিনে ফলন · ছাদ, বারান্দা ও বাড়ির বাগানের জন্য | Ridge Gourd Hybrid Seeds
হাইব্রিড F-1 ঝিঙের বীজ — রোগ প্রতিরোধী ও বেশি ফলনশীল প্রিমিয়াম জাত, সাজানো হয়েছে ছাদ ও বারান্দার বাগানের মাপে। এক প্যাকেটে ৮টি বীজ, উচ্চ অঙ্কুরোদগমের কারণে যা দিয়ে ৬–১০টি টব ভরে যায়। ১৫–১৮ ইঞ্চি টবে মাচা করে ৪০–৪৫ দিনেই লম্বা, সবুজ ঝিঙে তুলুন।
৳ ২,৫০০ এর উপরে ফ্রি ডেলিভারি
- বীজের সংখ্যা/পরিমাণ
- ৮টি বীজ
- বীজের ধরন
- F-1 হাইব্রিড
- বপনের মৌসুম
- খরিফ-১ · খরিফ-২
- অঙ্কুরোদগম তাপমাত্রা
- ২৫–৩৫°C
- অঙ্কুরোদগম সময়
- ৭–১০ দিন
- অঙ্কুরোদগম হার
- ৮৫%+
- প্রথম ফলন
- ৪০–৫০ দিন
- টবের মাপ
- ১৫x১৫ ইঞ্চি · ১৮x১৫ ইঞ্চি
- কঠিনতা
- মাঝারি
- ভেজানো প্রয়োজন
- ২৪ ঘণ্টা
- উপযুক্ত
- ছাদ বাগান · বারান্দা
পণ্যের বিবরণ · Product description
বর্ষা আর গরমের দিনে টাটকা, সবুজ ঝিঙে — আর এবার ছাদ বা বারান্দার টবেই। GrowDeshi হাইব্রিড ঝিঙের বীজ (F-1) হলো আমাদের বাছাই করা প্রিমিয়াম জাত: রোগ প্রতিরোধী, বেশি ফলনশীল এবং সুষম আকারের লম্বা সবুজ ধারযুক্ত ঝিঙে দেয়। ফল ২০০–২৫০ গ্রাম ওজনের, ৩০–৩৫ সেন্টিমিটার লম্বা, গায়ে সুন্দর খাঁজকাটা ধার। প্যাকেট সাজানো হয়েছে ঘরের বাগানের মাপে — ৮টি বীজ, যা একটি বারান্দা বা ছাদের পুরো মৌসুমের জন্য যথেষ্ট।
কেন হাইব্রিড F-1 বীজ
সাধারণ দেশি বা খোলা-পরাগায়িত বীজের তুলনায় F-1 হাইব্রিড ঝিঙের কয়েকটি বড় সুবিধা:
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: এই জাত রোগ সহনশীল — আর্দ্র বর্ষার আবহাওয়ায় যখন সাধারণ লতানো সবজি সহজেই ভাইরাস ও ছত্রাক রোগে পড়ে, তখন এটাই সবচেয়ে বড় ভরসা।
- বেশি ফলন: প্রতিটি গাছে বেশি সংখ্যক স্ত্রী ফুল ও ফল ধরে, তাই কম গাছেই বেশি ঝিঙে।
- সুষম ও আকর্ষণীয় ফল: সোজা, সমান আকারের ঝিঙে — লম্বা সবুজ, ধারযুক্ত, বেঁকে যায় না, খেতে ও দেখতে দুটোতেই ভালো।
- উচ্চ অঙ্কুরোদগম (৮৫%+): প্রায় প্রতিটি বীজ থেকেই চারা গজায়, তাই ৮টি বীজেই ৬–১০টি টব ভরে যায়।
F-1 হাইব্রিড থেকে পাওয়া ঝিঙে থেকে বীজ রেখে দিলে পরের মৌসুমে একই গুণ পাওয়া যায় না। তাই প্রতি মৌসুমে নতুন প্যাকেট থেকে বীজ লাগানোই ভালো — এতে রোগ প্রতিরোধ ও ফলন দুটোই ঠিক থাকে।
কেন ঘরোয়া মাপের প্যাকেট
বাজারের বেশিরভাগ বীজ প্যাকেট তৈরি হয় জমির চাষির জন্য — ৫ থেকে ১০ গ্রাম, অর্থাৎ শত শত বীজ। কিন্তু বাড়ির ছাদে বা বারান্দায় আপনার লাগে ৬–১০টি টব, প্রতি টবে ১টি সবল চারা। বাকি বীজ কৌটায় পড়ে থেকে অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা হারায়। উচ্চ অঙ্কুরোদগমের প্রিমিয়াম F-1 বীজ বলে আমরা ঠিক ততটুকুই দিই, যতটুকু আপনি এই মৌসুমে সত্যিই লাগাবেন — ৮টি বীজ।
বপনের সময়
| মৌসুম | বপন | মন্তব্য |
|---|---|---|
| গ্রীষ্ম (খরিফ-১) | ফেব্রুয়ারি–এপ্রিল | ঝিঙের আদর্শ মৌসুম |
| বর্ষা (খরিফ-২) | জুন–আগস্ট | হাইব্রিডের রোগ সহনশীলতা এ সময়েই সবচেয়ে কাজে লাগে |
টবে ঝিঙে চাষের ধাপে ধাপে নিয়ম পাবেন এই পণ্যের “চাষ পদ্ধতি” ট্যাবে। লতানো সবজির বিস্তারিত জানতে পড়ুন আমাদের টবে লতানো সবজি চাষের গাইড। বর্ষায় স্ত্রী ফুল কমে গেলে হাত পরাগায়ন করলে ফলন কয়েক গুণ বাড়ে, আর ফ্রুট ফ্লাই দমনের জৈব উপায় জানলে কচি ঝিঙে নষ্ট হওয়া ঠেকানো যায়।
নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI), কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (DAE) ও কৃষি তথ্য সার্ভিস (AIS)।
সাধারণ প্রশ্ন
এক প্যাকেটে কতটি বীজ থাকে?
৮টি বীজ। প্রিমিয়াম F-1 হাইব্রিড বলে অঙ্কুরোদগম হার বেশি (৮৫%+), তাই প্রতি টবে ১টি করে বীজ বসিয়েই ৬–১০টি টব ভরানো যায় — একটি বারান্দা বা ছাদের বাগানের এক মৌসুমের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট।
ঝিঙে কি ধুন্দল? দুটো কি এক?
না, দুটো আলাদা সবজি। ঝিঙের (Ridge Gourd) গায়ে লম্বালম্বি খাঁজকাটা ধার থাকে; আর ধুন্দল (Sponge Gourd) মসৃণ, ত্বক মোলায়েম। এই বীজ খাঁটি হাইব্রিড ঝিঙের — লম্বা, সবুজ, ধারযুক্ত ফল দেয়।
এই হাইব্রিড ঝিঙে কি রোগ প্রতিরোধী?
হ্যাঁ। F-1 হাইব্রিড জাতটি রোগ সহনশীল, তাই বর্ষার আর্দ্র আবহাওয়াতেও ভালো টেকে। তবে টবে জমা পানি এড়ালে ও মাচায় লতা তুলে দিলে ফল আরও ভালো হয়।
কোন আকারের টব লাগবে?
১৫–১৮ ইঞ্চি আকারের টব বা জিও ব্যাগ আদর্শ, সঙ্গে মাচা লাগবেই — ঝিঙে লতানো গাছ। ছোট টবে শিকড় জায়গা পায় না, ফলে ফলন কমে যায়।
কত দিনে ঝিঙে পাওয়া যায়?
বীজ ভিজিয়ে বপন করলে চারা গজায় ৭–১০ দিনে, আর চারা লাগানোর পর সাধারণত ৪০–৪৫ দিনের মধ্যেই ঝিঙে তোলা শুরু হয় — লতানো সবজির মধ্যে এটি বেশ দ্রুত। মাচা ও নিয়মিত পানি দিলে এক গাছ থেকেই মৌসুমজুড়ে ফল পাওয়া যায়।
চাষ পদ্ধতি · How to grow
১ চাষের মৌসুম · Growing season
ঝিঙে মূলত গ্রীষ্ম (খরিফ-১) ও বর্ষা (খরিফ-২) মৌসুমের ফসল। বপনের উপযুক্ত সময় ফেব্রুয়ারি–আগস্ট। অঙ্কুরোদগমের জন্য আদর্শ তাপমাত্রা ২৫–৩৫°C এবং মাটির pH ৬.০–৭.০ হলে ঝিঙে সবচেয়ে ভালো হয়। হাইব্রিড F-1 জাত রোগ সহনশীল বলে আর্দ্র বর্ষাতেও ভালো ফলন দেয়।
২ কীভাবে চাষ করবেন · How to grow
- বীজ ভেজানো: ঝিঙের বীজের খোসা শক্ত, তাই বপনের আগে ২৪ ঘণ্টা পরিষ্কার পানিতে ভিজিয়ে রাখুন — এতে দ্রুত ও সমানভাবে চারা গজায়।
- টব: ১৫–১৮ ইঞ্চি আকারের টব বা জিও ব্যাগ নিন — প্রতি টবে ১টি চারা।
- মাটি: তলায় ২ ইঞ্চি ইটের সুরকি, তারপর ৬০% দোআঁশ মাটি + ৩০% পচা গোবর/পাতা-পচা সার + ৫% কোকোপিট + ৫% কাঠের ছাই মিশিয়ে ভরাট করুন।
- বপন: ভেজানো বীজ ১–২ সেন্টিমিটার গভীরে বসিয়ে হালকা মাটি দিয়ে ঢেকে দিন।
- পানি: বপনের পর ঝাঁঝরি বা স্প্রে দিয়ে হালকা করে ভিজিয়ে দিন; মাটি যেন স্যাঁতসেঁতে থাকে, কাদা নয়।
- অঙ্কুরোদগম: ২৫–৩৫°C তাপমাত্রায় ৭–১০ দিনে চারা গজায়।
- মাচা: গাছ ৬–৮ ইঞ্চি হলেই দড়ি বা জাল দিয়ে মাচা করে দিন — লতা উপরে উঠলে ঝিঙে সোজা, লম্বা ও পরিষ্কার থাকে।
৩ সার প্রয়োগ · Fertilizing
ফুল আসা শুরু হলে প্রতি ১৫ দিন পরপর জৈব সার দিন। ২০০ গ্রাম সরিষার খৈল বা ৫০০ গ্রাম শুকনো গোবর ২ লিটার পানিতে ১০ দিন ভিজিয়ে সেই পানি গাছের গোড়ায় ঢালুন। ফুল-ফল ধরার সময় গোড়ায় এক মুঠো কাঠের ছাই দিলে ফলন বাড়ে।
৪ যত্ন · Care
- রোদ: দিনে অন্তত ৫–৬ ঘণ্টা সরাসরি রোদ।
- পানি: গরমে প্রতিদিন সকাল-বিকেল, বর্ষায় মাটি দেখে — কখনো টবে পানি জমতে দেবেন না।
- মাটি: নিষ্কাশন ভালো রাখুন; টবের তলার ছিদ্র খোলা রাখুন যাতে জমা পানিতে শিকড় না পচে।
- পোকা: ফ্রুট ফ্লাই ও জাব পোকা — ১ লিটার পানিতে ৫ মিলি নিম তেল + ২ মিলি ডিশ সোপ মিশিয়ে সপ্তাহে একবার স্প্রে করুন।
- রোগ: হাইব্রিড জাত রোগ সহনশীল হলেও অতিরিক্ত আর্দ্রতায় পাউডারি মিলডিউ হতে পারে — ১ ভাগ দুধ ৯ ভাগ পানিতে মিশিয়ে সকালে স্প্রে করলে প্রতিরোধ হয়।
৫ ফসল সংগ্রহ · Harvest
চারা লাগানোর ৪০–৪৫ দিনের মধ্যে ঝিঙে তোলার উপযোগী হয় — লতানো সবজির মধ্যে বেশ দ্রুত। ফুল আসার পর ৭–১০ দিনেই কচি ঝিঙে ধরে। ফল কচি ও নরম থাকতেই তুলুন — টিপে দেখলে নরম লাগবে, ধার সবুজ থাকবে। বেশি বড় বা শক্ত হলে ভেতরে আঁশ জমে ও স্বাদ কমে। ২–৩ দিন পরপর নিয়মিত তুললে গাছ বেশি ফল দেয়।












পর্যালোচনা
এখনো কোনো রিভিউ নেই। প্রথম রিভিউটি আপনিই লিখুন।