কলমি শাকের বীজ · উন্নত দেশি জাত (১০ গ্রাম) — সহজ ও দ্রুত ফলন · ছাদ, বারান্দা ও বাড়ির বাগানের জন্য | Kangkong / Water Spinach Seeds
কলমি শাকের বীজ — উন্নত দেশি (ওপেন পলিনেটেড) জাত, বর্ষা ও গ্রীষ্মে সহজেই জন্মায় এমন দ্রুত-বাড়ন্ত পুষ্টিকর শাক, একদম নতুন চাষির জন্য আদর্শ। এক প্যাকেটে ১০ গ্রাম বীজ, উচ্চ অঙ্কুরোদগমের (৮৫%+) কারণে যা দিয়ে একটি ট্রে বা কয়েকটি টব ভরে বারবার কেটে শাক খাওয়া যায়।
৳ ২,৫০০ এর উপরে ফ্রি ডেলিভারি
- বীজের সংখ্যা/পরিমাণ
- ১০ গ্রাম
- বীজের ধরন
- দেশি জাত
- বপনের মৌসুম
- খরিফ-১ · খরিফ-২
- অঙ্কুরোদগম তাপমাত্রা
- ২৫–৩৫°C
- অঙ্কুরোদগম সময়
- ৫–৭ দিন
- অঙ্কুরোদগম হার
- ৮৫%+
- প্রথম ফলন
- ২৫–৩৫ দিন
- টবের মাপ
- ১০x১০ ইঞ্চি · ৮x৮ ইঞ্চি
- কঠিনতা
- সহজ
- ভেজানো প্রয়োজন
- ২৪ ঘণ্টা
- উপযুক্ত
- ছাদ বাগান · বারান্দা
পণ্যের বিবরণ · Product description
নতুন চাষির প্রথম সাফল্য এনে দেওয়ার মতো একটি শাক যদি বেছে নিতে হয়, সেটি কলমি শাক। GrowDeshi কলমি শাকের বীজ হলো একটি উন্নত দেশি জাত (ওপেন পলিনেটেড) — সহজে ও দ্রুত জন্মায়, ভেজা-আর্দ্র মাটি ও বর্ষা দারুণ পছন্দ করে, আর একবার লাগালে বারবার কেটে মৌসুমজুড়ে টাটকা শাক দেয়। মাচা লাগে না, বড় টব লাগে না — একটি ট্রে বা ছোট টবেই হয়ে যায়। প্যাকেট সাজানো হয়েছে ঘরের বাগানের মাপে — ১০ গ্রাম বীজ, একটি বারান্দা বা ছাদের জন্য যথেষ্ট।
কেন এই দেশি জাত
কলমি শাকের এই উন্নত দেশি (ওপেন পলিনেটেড) জাত নতুন চাষির জন্য কেন এত ভালো:
- সহজ ও দ্রুত চাষ: বীজ থেকে শাক পর্যন্ত সবটাই সহজ — মাত্র ২৫–৩০ দিনেই প্রথম শাক কাটা যায়। এর চেয়ে সহজ শাক আর হয় না।
- পুষ্টিকর শাক: কলমি শাকে থাকে প্রচুর আয়রন, ভিটামিন এ ও সি — কম খরচে ঘরেই টাটকা, নিরাপদ শাক।
- বর্ষায় দারুণ জন্মে: কলমি ভেজা ও স্যাঁতসেঁতে মাটি ভালোবাসে, তাই যখন অনেক সবজি বর্ষার পানিতে নষ্ট হয়, তখন কলমি রমরমিয়ে বাড়ে।
- বীজ থেকে বীজ রেখে দেওয়া যায়: এটি হাইব্রিড নয়, উন্নত দেশি জাত — তাই কয়েকটি গাছ ফুল ও বীজে আসতে দিলে পরের মৌসুমের জন্য নিজেই বীজ সংরক্ষণ করা যায়। নিজের মাটি, নিজের বীজ, নিজের খাবার।
প্রথম কাটার পরও গোড়া রেখে দিন — গোড়া থেকে নতুন ডগা গজিয়ে আবার শাক দেয়। এভাবে একবার লাগানো গাছ থেকেই মৌসুমজুড়ে বারবার শাক তোলা যায়।
কেন ঘরোয়া মাপের প্যাকেট
বাজারের বেশিরভাগ বীজ প্যাকেট তৈরি হয় জমির চাষির জন্য — এক প্যাকেটে শত শত বীজ, যার বেশিরভাগ কৌটায় পড়ে থেকে অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা হারায়। কিন্তু বাড়ির ছাদে বা বারান্দায় একটি ট্রে বা কয়েকটি ছোট টবই যথেষ্ট। উচ্চ অঙ্কুরোদগমের এই দেশি বীজ বলে আমরা দিই ঠিক ততটুকু, যতটুকু আপনি এই মৌসুমে সত্যিই লাগাবেন — ১০ গ্রাম বীজ, সঙ্গে দু-একটি চারা নষ্ট হলেও হাতে বাড়তি বীজ থাকে।
বপনের সময়
| মৌসুম | বপন | মন্তব্য |
|---|---|---|
| বর্ষা (খরিফ-২) | জুন–সেপ্টেম্বর | প্রধান মৌসুম — ভেজা মাটি ও বৃষ্টিতে কলমি দ্রুত বাড়ে |
| গ্রীষ্ম (খরিফ-১) | মার্চ–মে | নিয়মিত পানি দিলে গরমেও ভালো শাক দেয় |
টবে ও ট্রেতে কলমি শাক চাষের ধাপে ধাপে নিয়ম পাবেন এই পণ্যের “চাষ পদ্ধতি” ট্যাবে। আরও জানতে পড়ুন আমাদের বর্ষায় কলমি ও ডাঁটা শাক চাষের গাইড। এই মৌসুমে আর কী কী সবজি লাগানো যায় দেখে নিন বর্ষায় যে সবজি লাগাবেন তালিকায়, আর একদম শুরু করছেন যারা তাদের জন্য রইল নতুনদের সবজি চাষের গাইড।
নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI), কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (DAE) ও কৃষি তথ্য সার্ভিস (AIS)।
সাধারণ প্রশ্ন
এক প্যাকেটে কতটি বীজ থাকে?
১০ গ্রাম বীজ। উন্নত দেশি জাত হওয়ায় অঙ্কুরোদগম হার বেশি (৮৫%+), তাই একটি ট্রে বা কয়েকটি ৮–১০ ইঞ্চি টব ভরিয়ে ঝোপ করে শাক ফলানো যায় — একটি বারান্দা বা ছাদের এক মৌসুমের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট।
কলমি শাক কি বর্ষায় ভালো হয়?
হ্যাঁ, কলমি শাক ভেজা ও আর্দ্র মাটি এবং বৃষ্টি খুব পছন্দ করে, তাই বর্ষা (খরিফ-২) এর সবচেয়ে ভালো মৌসুম। নিয়মিত পানি দিলে গ্রীষ্মেও (খরিফ-১) ভালো শাক পাওয়া যায়। মাটি সবসময় স্যাঁতসেঁতে রাখাই মূল কথা।
কোন আকারের টব লাগবে, মাচা কি দরকার?
৮–১০ ইঞ্চি চওড়া টব বা ট্রেই যথেষ্ট — কলমি শাকের মাচা লাগে না। ছড়িয়ে বসিয়ে ঝোপ করে ফলানো যায়। শুধু মাটি যেন কখনো শুকিয়ে না যায়, সবসময় ভেজা-স্যাঁতসেঁতে থাকে।
কত দিনে শাক পাওয়া যায়?
বীজ বপনের ২৫–৩০ দিনের মধ্যেই প্রথম শাক কাটার উপযোগী হয়। গোড়া রেখে কাটলে নতুন ডগা গজায়, তাই একবার লাগিয়ে বারবার কেটে মৌসুমজুড়ে শাক তোলা যায়।
এই বীজ থেকে কি পরের মৌসুমের জন্য বীজ রেখে দেওয়া যায়?
হ্যাঁ। এটি হাইব্রিড নয়, উন্নত দেশি (ওপেন পলিনেটেড) জাত। তাই কয়েকটি গাছ না কেটে ফুল ও বীজে আসতে দিলে সেই বীজ শুকিয়ে পরের মৌসুমের জন্য নিজেই সংরক্ষণ করতে পারবেন — গাছও মূল গাছের গুণ ধরে রাখে।
চাষ পদ্ধতি · How to grow
১ চাষের মৌসুম · Growing season
কলমি শাক মূলত বর্ষা (খরিফ-২) ও গ্রীষ্ম (খরিফ-১) মৌসুমের ফসল। বপনের উপযুক্ত সময় বর্ষায় জুন–সেপ্টেম্বর এবং গ্রীষ্মে মার্চ–মে। অঙ্কুরোদগমের জন্য আদর্শ তাপমাত্রা ২৫–৩৫°C এবং মাটির pH ৬.০–৭.০ হলে ভালো হয়। কলমি ভেজা ও আর্দ্র মাটি খুব পছন্দ করে, তাই বর্ষায় এটি অনায়াসে জন্মায়।
২ কীভাবে চাষ করবেন · How to grow
- বীজ ভেজানো: বপনের আগে বীজ ২৪ ঘণ্টা পরিষ্কার পানিতে ভিজিয়ে রাখুন — এতে শক্ত খোসা নরম হয়ে অঙ্কুরোদগম দ্রুত ও সমান হয়।
- টব: ৮–১০ ইঞ্চি চওড়া টব বা ট্রে নিন — মাচা লাগে না; কলমি ছড়িয়ে ঝোপ করে বাড়ে।
- মাটি: তলায় ২ ইঞ্চি ইটের সুরকি, তারপর ৬০% দোআঁশ মাটি + ৩০% পচা গোবর/পাতা-পচা সার + ১০% কোকোপিট মিশিয়ে ভরাট করুন — এই মিশ্রণ পানি ধরে রাখে বলে কলমির জন্য আদর্শ।
- বপন: ভেজানো বীজ ১–২ সেন্টিমিটার গভীরে ছড়িয়ে বা সারি করে বসিয়ে হালকা মাটি দিয়ে ঢেকে দিন।
- পানি: ঝাঁঝরি বা স্প্রে দিয়ে ভিজিয়ে দিন এবং মাটি সবসময় স্যাঁতসেঁতে/ভেজা রাখুন — কলমি শুকনো মাটি সহ্য করে না।
- অঙ্কুরোদগম: ২৫–৩৫°C তাপমাত্রায় ৫–৭ দিনে চারা গজায়।
- জিও বেড: অল্প জায়গায় বেশি শাক পেতে একটি চওড়া জিও ভেজিটেবল বেড-এ ছিটিয়ে বপন করুন — শাকের জন্য এটি সাধারণ টবের চেয়ে ভালো, নিষ্কাশনও ভালো হয়।
৩ সার প্রয়োগ · Fertilizing
শাক দ্রুত বাড়ে বলে বাড়ন্ত অবস্থায় প্রতি ১০–১৫ দিন পরপর হালকা জৈব সার দিন। ১০০ গ্রাম সরিষার খৈল ২ লিটার পানিতে ২ দিন ভিজিয়ে সেই পানি গাছের গোড়ায় ঢালুন, অথবা ৮–১০ ইঞ্চি টবে ১০০–১৫০ গ্রাম ভার্মিকম্পোস্ট মিশিয়ে দিন। প্রতিবার শাক কাটার পর একটু জৈব সার দিলে নতুন ডগা তাড়াতাড়ি গজায়।
৪ যত্ন · Care
- রোদ: দিনে অন্তত ৪–৬ ঘণ্টা রোদ; হালকা ছায়াতেও চলে।
- পানি: মাটি সবসময় ভেজা রাখুন — গ্রীষ্মে প্রতিদিন সকাল-বিকেল, বর্ষায় মাটি দেখে। কলমি ভেজা মাটি পছন্দ করে, তবে টবে যেন পানি টানা জমে না থাকে।
- মাটি: পানি ধরে রাখে এমন উর্বর মাটি ভালো; তবে টবের তলার ছিদ্র খোলা রাখুন।
- পোকা: জাব পোকা ও পাতা খেকো পোকা মাঝে মাঝে আসে — ১ লিটার পানিতে ৫ মিলি নিম তেল + ২ মিলি ডিশ সোপ মিশিয়ে সপ্তাহে একবার স্প্রে করুন। শাক খাওয়ার ১ দিন আগে স্প্রে করবেন না।
- রোগ: অতিরিক্ত ভিড় ও জমা পানিতে পাতায় দাগ পড়তে পারে — গাছ পাতলা রাখুন ও বাড়তি পানি জমতে দেবেন না।
৫ ফসল সংগ্রহ · Harvest
বীজ বপনের ২৫–৩০ দিনের মধ্যে প্রথম শাক কাটার উপযোগী হয়। গাছ ১৫–২০ সেন্টিমিটার লম্বা হলে গোড়ার ৫–৭ সেন্টিমিটার রেখে উপরের কচি ডগা কাটুন — গোড়া থেকে আবার নতুন ডগা গজায়। এভাবে প্রতি ১০–১৫ দিন পরপর বারবার কেটে মৌসুমজুড়ে টাটকা কলমি শাক তোলা যায়। কচি ও নরম থাকতেই তুললে খেতে সবচেয়ে ভালো।












পর্যালোচনা
এখনো কোনো রিভিউ নেই। প্রথম রিভিউটি আপনিই লিখুন।