ডাঁটা শাকের বীজ · উন্নত দেশি জাত (১০ গ্রাম) — সহজ ও দ্রুত ফলন · ছাদ, বারান্দা ও বাড়ির বাগানের জন্য | Stem Amaranth Seeds
উন্নত দেশি জাতের ডাঁটা শাকের বীজ (ওপেন পলিনেটেড) — নতুন চাষির জন্য সবচেয়ে সহজ ও দ্রুত ফসল। ডাঁটা শাকের বীজ খুব ছোট, তাই এক প্যাকেটে দিলাম ১০ গ্রাম বীজ। ৮–১০ ইঞ্চি টবে ছিটিয়ে বুনে ৩০–৪০ দিনেই টাটকা ডাঁটা শাক তুলুন — মাচাও লাগে না।
৳ ২,৫০০ এর উপরে ফ্রি ডেলিভারি
- বীজের সংখ্যা/পরিমাণ
- ১০ গ্রাম
- বীজের ধরন
- দেশি জাত
- বপনের মৌসুম
- খরিফ-১ · খরিফ-২
- অঙ্কুরোদগম তাপমাত্রা
- ২৫–৩৫°C
- অঙ্কুরোদগম সময়
- ৩–৫ দিন
- অঙ্কুরোদগম হার
- ৮৫%+
- প্রথম ফলন
- ৩০–৪০ দিন
- টবের মাপ
- ১০x১০ ইঞ্চি · ৮x৮ ইঞ্চি
- কঠিনতা
- সহজ
- ভেজানো প্রয়োজন
- প্রয়োজন নেই
- উপযুক্ত
- ছাদ বাগান · বারান্দা
পণ্যের বিবরণ · Product description
বাড়ির টবেই টাটকা, নরম ডাঁটা শাক — আর এটাই সম্ভবত সবচেয়ে সহজ সবজি দিয়ে শুরু করার সুযোগ। GrowDeshi ডাঁটা শাকের বীজ হলো আমাদের বাছাই করা উন্নত দেশি জাত (ওপেন পলিনেটেড): দ্রুত গজায়, দ্রুত বড় হয় এবং গরম-বর্ষা দুই মৌসুমেই দিব্যি হয়। ডাঁটা শাকের বীজ খুব ছোট বলে প্যাকেটে দিয়েছি ১০ গ্রাম বীজ, যা একটি ছাদ বা বারান্দার বাগানের কয়েক দফা শাকের জন্য যথেষ্ট।
কেন এই দেশি জাত
ডাঁটা শাকের জন্য দামি বীজের দরকার নেই — এই উন্নত দেশি জাত (ওপেন পলিনেটেড) নতুন চাষির জন্যই সবচেয়ে উপযুক্ত:
- খুব সহজ ও দ্রুত: বীজ বুনে ৩–৫ দিনেই চারা গজায় আর ৩০–৪০ দিনেই শাক তোলা যায় — একজন প্রথমবারের চাষির জন্য এর চেয়ে সহজ ফসল আর হয় না।
- পুষ্টিকর: ডাঁটা শাক আয়রন, ক্যালসিয়াম ও আঁশে ভরপুর; কচি পাতা ও নরম ডাঁটা দুটোই রান্না করা যায়, তাই এক গাছেই বেশি খাবার মেলে।
- নিজে বীজ রেখে দেওয়া যায়: এটি ওপেন পলিনেটেড দেশি জাত — গাছ থেকে কয়েকটি ডাঁটা ফুল-বীজ পর্যন্ত রেখে দিলে সেই বীজ থেকে পরের মৌসুমেও একই মানের শাক পাবেন। বছর বছর নতুন বীজ কেনার দরকার নেই।
- উচ্চ অঙ্কুরোদগম (৮৫%+): প্রায় প্রতিটি বীজ থেকেই চারা গজায়, তাই ১০ গ্রাম বীজ দিয়ে অনায়াসে কয়েকটি টব ঘন করে বোনা যায়।
ডাঁটা শাক ছিটিয়ে ঘন করে বুনুন। গাছ একটু বড় হলে মাঝেমধ্যে টেনে তুলে (পাতলা করে) খেয়ে ফেলুন — এতে বাকি গাছগুলো জায়গা পেয়ে আরও মোটা ডাঁটা ধরে।
কেন ঘরোয়া মাপের প্যাকেট
বাজারের বেশিরভাগ শাকের বীজ প্যাকেট তৈরি হয় জমির চাষির জন্য — অনেক বেশি বীজ, যার বেশিরভাগই কৌটায় পড়ে থেকে অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা হারায়। ডাঁটা শাকের বীজ যেহেতু খুবই ছোট, অল্প ওজনেই সংখ্যায় অনেক হয় — তাই আমরা দিই ১০ গ্রাম বীজ, যা দিয়ে একটি ছাদ বা বারান্দার বাগানে কয়েক দফা টাটকা শাক তোলা যায়, অথচ বীজ নষ্ট হয় না।
বপনের সময়
ডাঁটা শাক উষ্ণ আবহাওয়ার ফসল — গরমকাল ও বর্ষায় সবচেয়ে ভালো হয়। তাই এর প্রধান মৌসুম গ্রীষ্ম (খরিফ-১) ও বর্ষা (খরিফ-২)।
| মৌসুম | বপন | মন্তব্য |
|---|---|---|
| গ্রীষ্ম (খরিফ-১) | মার্চ–জুন | দ্রুত বাড়ে, ঘন ঘন শাক মেলে |
| বর্ষা (খরিফ-২) | জুলাই–সেপ্টেম্বর | বৃষ্টিতেও ভালো হয়; নিষ্কাশন ঠিক রাখুন |
টবে ডাঁটা শাক চাষের ধাপে ধাপে নিয়ম পাবেন এই পণ্যের “চাষ পদ্ধতি” ট্যাবে। আরও জানতে পড়ুন বর্ষায় কলমি ও ডাঁটা শাক চাষের গাইড; একই সময়ে আর কী কী লাগাতে পারেন দেখুন বর্ষায় যে সবজি লাগাবেন তালিকায়, আর পাতা-শাক ভালোবাসলে সঙ্গে লাগান বর্ষায় পুঁই ও লাল শাক।
নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI), কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (DAE) ও কৃষি তথ্য সার্ভিস (AIS)।
সাধারণ প্রশ্ন
এক প্যাকেটে কতটি বীজ থাকে?
১০ গ্রাম বীজ। ডাঁটা শাকের বীজ খুব ছোট, তাই সংখ্যায় বেশি দেওয়া হয়। উচ্চ অঙ্কুরোদগমের (৮৫%+) এই দেশি বীজ দিয়ে ৮–১০ ইঞ্চি কয়েকটি টব ঘন করে বোনা যায় — একটি ছাদ বা বারান্দার বাগানে কয়েক দফা শাকের জন্য যথেষ্ট।
ডাঁটা শাকের বীজ কি ভিজিয়ে বপন করতে হয়?
না। ডাঁটা শাকের বীজ খুবই ছোট, তাই ভেজানোর প্রয়োজন নেই। শুকনো বীজ সরাসরি মাটির উপর ছিটিয়ে খুব হালকা মাটি বা কোকোপিট দিয়ে ঢেকে দিন। ২৫–৩৫°C তাপমাত্রায় ৩–৫ দিনেই চারা গজায়।
ডাঁটা শাক চাষে কি মাচা লাগে?
না। ডাঁটা শাক সোজা দাঁড়িয়ে বাড়ে, লতানো নয় — মাচার দরকার নেই। ৮–১০ ইঞ্চি টবে ছিটিয়ে বুনলেই হয়; নতুন চাষির জন্য এটাই সবচেয়ে ঝামেলাহীন সবজি।
কত দিনে ডাঁটা শাক তোলা যায়?
বীজ বোনার ৩০–৪০ দিনের মধ্যেই শাক তোলার উপযোগী হয়। প্রথমে পাতলা করে (ঘন গাছ টেনে তুলে) খাওয়া শুরু করুন; পরে নরম ডাঁটাসহ কেটে নিন। কচি অবস্থায় তুললেই স্বাদ ও নরম ভাব সবচেয়ে ভালো থাকে।
এই বীজ থেকে কি নিজে বীজ রেখে দেওয়া যায়?
হ্যাঁ — এটাই এই দেশি জাতের বড় সুবিধা। জাতটি ওপেন পলিনেটেড বলে গাছের বীজ থেকে পরের মৌসুমেও একই গুণ পাওয়া যায়। কয়েকটি সবল গাছ শাক না তুলে রেখে দিন; গাছ ফুল দিয়ে বীজ ধরবে। শুকনো বীজ সংগ্রহ করে রেখে দিলে পরের মৌসুমে একই মানের ডাঁটা শাক পাবেন।
চাষ পদ্ধতি · How to grow
১ চাষের মৌসুম · Growing season
ডাঁটা শাক উষ্ণ আবহাওয়ার ফসল — গরমকাল ও বর্ষায় সবচেয়ে ভালো হয়। এর প্রধান মৌসুম গ্রীষ্ম (খরিফ-১) ও বর্ষা (খরিফ-২), বপনের উপযুক্ত সময় মার্চ–সেপ্টেম্বর। অঙ্কুরোদগমের জন্য আদর্শ তাপমাত্রা ২৫–৩৫°C এবং মাটির pH ৬.০–৭.০ হলে শাক সবচেয়ে ভালো হয়। উন্নত দেশি জাত বলে বৃষ্টি ও গরম দুই আবহাওয়াতেই ভরসা রাখা যায়।
২ কীভাবে চাষ করবেন · How to grow
- বীজ ভেজানো লাগে না: ডাঁটা শাকের বীজ খুব ছোট — ভেজানোর দরকার নেই, শুকনো বীজই সরাসরি বুনুন।
- টব: ৮–১০ ইঞ্চি আকারের টব বা চওড়া পাত্র নিন; শাক ঘন করে বোনা হয়, তাই একটি টবেই অনেক গাছ ধরে।
- মাটি: তলায় ১–২ ইঞ্চি ইটের সুরকি, তারপর ৬০% দোআঁশ মাটি + ৩০% পচা গোবর/পাতা-পচা সার + ৫% কোকোপিট + ৫% কাঠের ছাই মিশিয়ে ভরাট করুন।
- বপন: মাটির উপর বীজ ছিটিয়ে দিন, তারপর খুব পাতলা করে (আধা সেন্টিমিটারের কম) মাটি বা কোকোপিট দিয়ে ঢেকে দিন — বেশি গভীরে গেলে ছোট বীজ গজাতে পারে না।
- পানি: বপনের পর ঝাঁঝরি বা স্প্রে দিয়ে খুব হালকা করে ভিজিয়ে দিন; মাটি যেন স্যাঁতসেঁতে থাকে, কাদা নয়।
- অঙ্কুরোদগম: ২৫–৩৫°C তাপমাত্রায় ৩–৫ দিনেই চারা গজায়।
- পাতলা করা: চারা ২–৩ ইঞ্চি হলে ঘন গাছগুলো মাঝেমধ্যে টেনে তুলে খেয়ে ফেলুন — বাকি গাছ জায়গা পেয়ে মোটা ডাঁটা ধরে। মাচা লাগে না।
- জিও বেড: অল্প জায়গায় বেশি শাক পেতে একটি চওড়া জিও ভেজিটেবল বেড-এ ছিটিয়ে বপন করুন — শাকের জন্য এটি সাধারণ টবের চেয়ে ভালো, নিষ্কাশনও ভালো হয়।
৩ সার প্রয়োগ · Fertilizing
ডাঁটা শাক পাতা-জাতীয় ফসল, তাই নাইট্রোজেন-সমৃদ্ধ জৈব সার ভালো কাজ করে। চারা গজানোর ৭–১০ দিন পর থেকে প্রতি ১০–১৫ দিন পরপর ৮–১০ ইঞ্চি টবে ১০০–১৫০ গ্রাম ভার্মিকম্পোস্ট অথবা ২০০ গ্রাম পচা গোবর সার গোড়ার মাটিতে হালকা মিশিয়ে দিন। দ্রুত সবুজ বৃদ্ধির জন্য ১০০ গ্রাম সরিষার খৈল ২ লিটার পানিতে ১০ দিন ভিজিয়ে সেই পানি গোড়ায় ঢালতে পারেন।
৪ যত্ন · Care
- রোদ: দিনে অন্তত ৪–৫ ঘণ্টা রোদ; হালকা ছায়াতেও শাক দিব্যি হয়।
- পানি: গরমে প্রতিদিন সকাল-বিকেল হালকা করে, বর্ষায় মাটি দেখে — কখনো টবে পানি জমতে দেবেন না।
- মাটি: নিষ্কাশন ভালো রাখুন; টবের তলার ছিদ্র খোলা রাখুন যাতে জমা পানিতে শিকড় না পচে।
- পোকা: ডাঁটা শাকে সাধারণত পাতা খাওয়া শুঁয়োপোকা ও জাব পোকা হয় — ১ লিটার পানিতে ৫ মিলি নিম তেল + ২ মিলি ডিশ সোপ মিশিয়ে সপ্তাহে একবার স্প্রে করুন।
- রোগ: অতিরিক্ত ঘন বপন ও জমা পানিতে গোড়া পচা দেখা দিতে পারে — বপন খুব ঘন হলে পাতলা করে দিন ও পানি জমতে দেবেন না।
৫ ফসল সংগ্রহ · Harvest
বীজ বোনার ৩০–৪০ দিনের মধ্যেই ডাঁটা শাক তোলার উপযোগী হয়। প্রথমে ঘন গাছ টেনে তুলে (পাতলা করে) কচি চারা খাওয়া শুরু করুন; গাছ বড় হলে নরম ডাঁটাসহ কেটে নিন। ডাঁটা যতক্ষণ নরম ও সহজে ভাঙা যায় ততক্ষণই তোলার আদর্শ সময় — বেশি বড় হলে ডাঁটা শক্ত ও আঁশযুক্ত হয়ে স্বাদ কমে যায়। একবার প্রধান ডাঁটা কাটলে গোড়া থেকে নতুন কুশি গজিয়ে আবারও শাক দেয়।












পর্যালোচনা
এখনো কোনো রিভিউ নেই। প্রথম রিভিউটি আপনিই লিখুন।